ইন্ডাস্ট্রিয়াল অটোমেশনে PLC Communication এর ৪টি প্রধান স্তর।
ইন্ডাস্ট্রিয়াল অটোমেশনে PLC (Programmable Logic Controller) হলো ব্রেইন, কিন্তু এই ব্রেইন যখন অন্যান্য ডিভাইস বা সেন্সরের সাথে কথা বলে, তখন তাকে একটি নির্দিষ্ট ভাষা বা Protocol ব্যবহার করতে হয়। এই পুরো ব্যবস্থাকে আমরা ৪টি প্রধান ভাগে ভাগ করতে পারি।
১. Serial Based (সিরিয়াল ভিত্তিক কমিউনিকেশন)
এটা হলো অটোমেশনের দাদামশাই। ডাটাগুলো এখানে একটার পর একটা বিট আকারে লাইনে দাঁড়িয়ে যায়।
-
Physical Layer (রাস্তা):
-
RS-232: এটা দিয়ে কেবল Point-to-Point কথা বলা যায় (১টা ডিভাইসের সাথে ১টা)। দূরত্ব ১৫ মিটারের বেশি হলে ডাটা লস হয়।
-
RS-485: এটা অনেক কাজের। এটা দিয়ে Daisy Chain করে একটা তার দিয়ে ৩২টা পর্যন্ত ডিভাইস (যেমন VFD বা এনার্জি মিটার) কানেক্ট করা যায়। এটা ১.২ কিলোমিটার পর্যন্ত সিগন্যাল নিতে পারে।
-
-
Protocols (ভাষা):
-
Modbus RTU: এটা সবচেয়ে কমন। সব ব্র্যান্ডের পিএলসি এই ভাষা বোঝে। এটা ডাটাকে বাইনারি কোডে পাঠায়।
-
PROFIBUS DP: সিমেন্সের পেটেন্ট করা। এটা বেগুনী রঙের (Purple) তার দিয়ে চলে।
-
CANopen: এটা সাধারণত গাড়ির ইঞ্জিন বা খুব ছোট মেশিনে ড্রাইভ কন্ট্রোল করতে ইউজ হয়।
-
-
কিভাবে চলে: এটা মূলত Master-Slave নিয়মে চলে। পিএলসি (Master) যাকে ডাক দিবে, কেবল সেই ডিভাইস (Slave) কথা বলবে।
২. Industrial Ethernet (ইথারনেট ভিত্তিক কমিউনিকেশন)
এখনকার সব মডার্ন ফ্যাক্টরি এই লেভেলে চলে। আপনার ল্যাপটপে যে ইন্টারনেটের তার লাগান, ঠিক ওই টেকনোলজিই এখানে ইউজ হয়।
-
Physical Layer (রাস্তা): CAT5e/CAT6 শিল্ডেড ক্যাবল এবং RJ45 কানেক্টর। অনেক সময় সুইচের মাধ্যমে ফাইবার অপটিক ক্যাবলও ইউজ করা হয়।
-
Protocols (ভাষা):
-
PROFINET: সিমেন্সের মেইন পাওয়ার। এটা খুব ফাস্ট আর এর ডায়াগনস্টিক ক্ষমতা অনেক বেশি।
-
Modbus TCP/IP: এটা মডবাসেরই হাই-স্পিড ভার্সন। যখন ল্যান তার দিয়ে মডবাস চলে তখন একে Modbus TCP বলে।
-
EtherCAT: এটা আল্ট্রা ফাস্ট। যখন রোবট বা খুব স্পিডি প্যাকিং মেশিনে মাইক্রো-সেকেন্ডে কাজ করতে হয়, তখন এটা লাগে। আপনার পাঠানো ছবির Lenze ড্রাইভে এটা থাকার চান্স বেশি।
-
-
কিভাবে চলে: এটা Client-Server মডেলে চলে। প্রত্যেকটা ডিভাইসের আলাদা IP Address থাকে। একটা Ethernet Switch-এর মাধ্যমে সবাই কানেক্টেড থাকে।

৩. Fieldbus (ফিল্ড লেভেল বা সেন্সর কমিউনিকেশন)
ফ্যাক্টরিতে যখন হাজার হাজার সেন্সর থাকে, তখন প্রতিটার জন্য আলাদা তার পিএলসি পর্যন্ত আনা অনেক ঝামেলার। সেই তারের জঞ্জাল কমানোর জন্যই এই লেভেল।
-
Physical Layer (রাস্তা): স্পেশাল ২-কোর বা ৩-কোর তার। অনেক সময় চ্যাপ্টা হলুদ তার (AS-i) ইউজ হয়।
-
Protocols (ভাষা):
-
AS-Interface (AS-i): এটা দিয়ে কেবল অন/অফ সিগন্যাল আনা হয়। মাত্র একটা তার দিয়ে অনেকগুলো সেন্সর কানেক্ট করা যায়।
-
IO-Link: এটা বর্তমানের হিরো। এটা Smart Sensor-এর জন্য লাগে। সেন্সর ঠিকমতো কাজ করছে কি না, বা লেন্স ময়লা হয়ে গেছে কি না—সব ডাটা এটা দিয়ে পাওয়া যায়।
-
-
কিভাবে চলে: এখানে একটা Master Module থাকে। সব সেন্সর ওই মাস্টার মডিউলে এসে লাগে, আর মাস্টার মডিউল থেকে একটা তার মেইন পিএলসিতে যায়।
৪. IIoT & Management (হাই-লেভেল ও ক্লাউড কমিউনিকেশন)
এটা হলো একদম টপ লেভেলের কাজ। যখন ফ্যাক্টরির ডাটা আপনি অফিসের কম্পিউটারে, মোবাইলে বা ইন্টারনেটে দেখতে চান।
-
Physical Layer (রাস্তা): Standard TCP/IP (Internet/LAN/WiFi)।
-
Protocols (ভাষা):
-
OPC UA: এটাকে বলা হয় ‘ইউনিভার্সাল ল্যাঙ্গুয়েজ’। ধরুন আপনার কাছে সিমেন্সের পিএলসি আছে কিন্তু ডাটা পাঠাতে হবে মিতসুবিশির সিস্টেমে। তখন মাঝখানে দোভাষী হিসেবে OPC UA কাজ করে।
-
MQTT: এটা অনেক লাইটওয়েট বা হালকা প্রটোকল। পিএলসির ডাটা সরাসরি ফেসবুক বা মেসেঞ্জারের মতো ফাস্ট ক্লাউড সার্ভারে পাঠানোর জন্য এটা ইউজ হয়।
-
BACnet: এটা মূলত বিল্ডিং কন্ট্রোল করার জন্য (যেমন এসি, লিফট বা লাইটিং সিস্টেম) স্পেশালি ডিজাইন করা।
-
-
কিভাবে চলে: এটা মূলত ডাটা অ্যানালাইসিস এবং রিমোট মনিটরিংয়ের জন্য। দুনিয়ার যেকোনো প্রান্ত থেকে আপনার ফ্যাক্টরি কন্ট্রোল বা মনিটর করতে পারবেন এটা দিয়ে।
একনজরে রিলেশন টেবিল
| ক্যাটাগরি | রাস্তা (Physical Layer) | ভাষা (Protocol) | কাজের ক্ষেত্র |
| Serial | RS-485 / RS-232 | Modbus RTU, Profibus | ছোট ডিভাইস, এনার্জি মিটার। |
| Ethernet | CAT6 RJ45 | Modbus TCP, PROFINET, EtherCAT | বড় ফ্যাক্টরি, ড্রাইভ কন্ট্রোল। |
| Fieldbus | Special 2/3 core | IO-Link, AS-i | সেন্সর এবং একচুয়েটর। |
| Management | Internet / LAN | OPC UA, MQTT | ক্লাউড, মোবাইল অ্যাপ, স্কাডা। |



